জমি বুঝে পেল ৩৯ ভূমিহীন আদিবাসী পরিবার

প্রধান প্রতিবেদক প্রতিবেদক, নাচোল অফিস
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ৮ বছর আগে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত পেয়েছিলেন ৪৯ ভূমিহীন আদিবাসী পরিবার। কিন্তু প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় এতদিন তারা জমির দখল নিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জটিভি ডট কম এ গত ৬ মে সংবাদ প্রকাশ হলে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীন আদিবাসীদের জমি উদ্ধারে তৎপর হন। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রভাবশালীদের দখল থেকে তিন দফায় মোট ৩৯ পরিবারকে তাদের পাওয়া জমি বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হন তিনি।
নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের প্রায় ৪৯ ভূমিহীন আদিবাসী পরিবার নিজস্ব আশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রায় এক যুগে আগে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালে প্রায় ৪৫ বিঘা সরকারি খাস জমি ৪৯ ভূমিহীন আদিবাসী পরিবার বন্দোবস্ত পান। কিন্তু প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় দীর্ঘ ৮ বছরেও জমি বুঝে নিতে পারেননি তারা। শ্যামপুর গ্রামের ভূমিহীন আদিবাসীরা জানান, বন্দোবস্ত পাওয়ার পর জমি বুঝে নিতে গেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার প্রভাবশালীদের বাধার মুখে পড়েন তারা। জীবননাশের হুমকির ভয়ে জমির দখল থেকে সরে আসেন। কয়েক বছর আগে নাচোল থানা পুলিশ জমির সীমানা নির্ধারণ করে দিয়ে এলেও পরদিন দখল নিতে পারেননি। দখলদার প্রভাবশালীরা হুমকি দিয়ে বলেন যে, জমিতে গেলেই মেরে ফেলবে। প্রাণভয়ে ভীত ভূমিহীন আদিবাসী পরিবারগুলো আর জমির মুখো হননি।
ঘটনাটি নিয়ে চলতি বছরের ৬মে প্রথম চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিভিতে সংবাদ প্রকাশ হয়, এরপর  বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকাতেও এটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ ও নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হকের সঙ্গে সে সময় সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তারা জানিয়েছিলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন।
সংবাদ প্রকাশের পর ভূমিহীন আদিবাসী পরিবারগুলো আবেদন করলে প্রশাসন দখলে থাকা বন্দোবস্ত দেয়া জমিগুলো উদ্ধারে তৎপর হন।
নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক গত ২৪ মে প্রথম দফা ৯ ও ৩১ মে দ্বিতীয় দফায় ১৬ ভূমিহীন আদিবাসী পরিবারকে বন্দোবস্ত পাওয়া সরকারি খাস জমি বুঝিয়ে দেন। গত বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামপুর গ্রামে নিজে উপস্থিত থেকে ১৪ ভূমিহীন আদিবাসী পরিবারকে তাদের জমি বুঝিয়ে দেন।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এর আগে দুই দফায় ২৫ পরিবারকে জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছিল। আজ (গত বৃহস্পতিবার) আরো ১৪ পরিবারকে জমি বুঝিয়ে দেয়া হলো। বাকি ১০ পরিবারকেও শিগগিরই জমি বুঝিয়ে দেয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি খাস জমি দখল বুঝিয়ে দেয়ার দায়িত্ব ছিল সরকারের। সরকারি তরফ থেকে আমরা সেটা করেছি। এখন বুঝে পাওয়া জমিগুলো দেখভাল কিংবা দখলে রাখার দায়িত্ব বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীন পরিবারগুলোর। তাদেরকে একতাবদ্ধ হয়ে জমি দখলে রাখতে হবে।’
এদিকে ৮ বছর পর বন্দোবস্ত পাওয়া জমি দখলে নিতে পেরে শ্যামপুর গ্রামে ভূমিহীন পরিবারগুলোর মধ্যে খুশির বন্যা বইছে। বন্দোবস্ত পাওয়া গোলক রায়, ভানু কর্মকার, জিতেন রায়, শ্রীমতি কটি বেওয়াসহ আরো অনেকে জানান, সাংবাদিকদের চেষ্টা আর ইউএনও স্যারের কল্যাণে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা আমাদের জমিগুলো আজ ফিরে পেলাম।

নাচোলে প্রভাবশালীদের দখলে সরকারি সম্পত্তি > ৮ বছরেও বন্দোবস্ত পাওয়া জমির দখল নিতে পারেননি ৪৯ ভূমিহীন আদিবাসী পরিবার শিরোনামে চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিভি প্রথম সংবাদটি প্রকাশ করেছিল, এবছরের ৬ মে।
সেই প্রকাশিত সংবাদটি পড়তে  লিংকে ক্লিক করুন

 



About chapainawabganj tv

বিজ্ঞাপন

src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5331163805288347" crossorigin="anonymous">

7